গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিবন্ধন নাম্বার ৬৮

দেশের মানুষের জন্যই রিজার্ভ ব্যবহার করা হচ্ছে ॥ প্রধানমন্ত্রী

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১ দিন ২ ঘন্টা ২৩ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 415
...

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্যই রিজার্ভ ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেছেন, মহামারীর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে যে সংকট তৈরি করেছে, তাতে সব দেশকে রিজার্ভ ব্যবহার করে চলতে হচ্ছে। সরকারকে উচ্চমূল্যে সার, জ্বালানি তেল এবং ভোজ্য তেল কিনতে হচ্ছে। যুদ্ধ এবং করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে, তার ধাক্কা আমাদের দেশে এসেও পড়েছে। মূল্যস্ফীতির জন্য সব দেশই আজ হিমশিম খাচ্ছে। আমাদেরও (রিজার্ভ ব্যবহার) করতে হচ্ছে এবং সেটা দেশের মানুষের জন্য।
 

সেদিকে লক্ষ্য রেখে সবাইকে মিতব্যয়ী এবং সঞ্চয়ী হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধ করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে আজকে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করেছি, আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছি ঘরে ঘরে। যদিও এখন ইউক্রেন যুদ্ধ এবং স্যাংশনের কারণে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।

 তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার সঠিক পথে রয়েছে। আমরা যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, কোভিড-যুদ্ধ এবং স্যাংশনের কারণে আমাদের কিছুটা থমকে দাঁড়াতে হয়েছে এটা ঠিক; কিন্তু এই অবস্থা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের লক্ষ্য জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা কায়েম করব।
 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারা বিশ্বে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। উন্নত দেশগুলোর কথা বলছি, আমেরিকা ইংল্যান্ড ইউরোপের কথা আমি বলছি।

 সেই ক্ষেত্রে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের খাদ্য কেনা বা আমাদের চাষ যাতে ঠিকমতো হয়। সার-তেল- ভোজ্য তেল কিনতে হচ্ছে উচ্চ মূল্যে। পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে।

পল্লী উন্নয়ন সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক মহাপরিচালক . তরুণ কান্তি সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং পল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগের সচিব মো. মশিউর রহমান।
 

শুরুতে জাতীয় সমবায় দিবসের একটি ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোট নয়টি সমবায় সমিতি (সমবায় সমিতি) এবং একজন ব্যক্তিকে জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২১ প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
 

খাদ্য উৎপাদনের বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশকে আরও এগিয়ে নিতে জনগণকে একত্রিত করে সমবায় গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। যদি যুব সমাজ এগিয়ে এসে সমগ্র গ্রাম মানুষকে এক করে সমবায়ের মাধ্যমে কার্যক্রম করতে পারে তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব। কেননা সবারই একটা দায়িত্ব থাকবে।

যুব সমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে বরং সমবায় গঠনের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন যেমন হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ অন্যান্য কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কর্তৃক স্থাপিত ১শটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। আপনারা (যুব সমাজ) সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করতে পারেন, যা শুধু স্থানীয় চাহিদাই মেটাবে না, বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সমবায়ের মাধ্যমে দেশ কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে পারে।
 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ করাই তাঁর লক্ষ্য এবং এজন্য সমবায়কে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু নিজের জীবন-জীবিকাকে উন্নত করার প্রত্যেক মানুষেরও আলাদা একটা চিন্তা থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে এই কাজগুলো করার সুযোগটা আমরা করে দিতে চাই।
 

সরকারপ্রধান বলেন, তাঁর সরকার প্রত্যেকটি সেক্টরকেই বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। যার প্রধান লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সেক্ষেত্রে আমাদের কৃষি উৎপাদন মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য সমবায় একান্তভাবে অপরিহার্য। কেননা এতটা ঘনবসতির দেশে সমবায়ই আমাদের অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি উপজেলা পর্যায়ে দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম বিস্তৃত করায় সমবায় অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানান কেননা এর ফলে প্রায় হাজার পরিবার উপকৃত হবে। শিশুরা যেমন দুধ খেতে পারবে তেমনি বয়োবৃদ্ধদেরও পুষ্টির সংস্থান হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সমবায় ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃৃগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নেও প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
 

প্রধানমন্ত্রী সময় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে আমরা পশু কোরবানির ক্ষেত্রে নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি উল্লেখ করে তিনি সকল ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হবার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর সরকারআমার বাড়ি আমার খামারপ্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের প্রকল্প নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঋণের বোঝা তাদের টানতে হবে না। সমবায়ের থেকে নেওয়া ঋণ থেকে তাদের সঞ্চয়ী হতে  হবে। এর মাধ্যমে কেউ আর পর মুখাপেক্ষী থাকবে না। সবাই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সময় উদাহরণ টেনে বলেন, তারা (সমবায়ী) যদি দুশ টাকা সঞ্চয় করতে পারে তাহলে সরকারের তরফ থেকে আরও বছর পর্যন্ত তাদের আরও দুশ টাকা করে দেওয়া হবে এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে সেটা জমা থাকবে। আর পরবর্তীতে প্রকল্পে না থাকলেও সে ব্যাংকের মূলধন দিয়েই তার সমস্ত কার্যক্রম চালাতে পারবে।

তাঁর সরকার প্রত্যেকটি গ্রামকেই শহরে রূপান্তরিত করতে চায় উল্লেখ করে সরকারেরআমার গ্রাম আমার শহরপ্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফসলি জমি নষ্ট করে বিক্ষিপ্তভাবে ঘর-বাড়ি তৈরি না করে সরকারপল্লী জনপদনামেও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যেখানে সমবায়ের মাধ্যমে উন্নত ঘর বাড়ি করে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তারা চাইলে ফ্লাট কিনতে পারবে। সরকারের বাস্তবায়নাধীনবঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজপ্রকল্প সাধারণ মানুষের জীবন-যাত্রাকে আরও উন্নত করবে বলেও তিনি সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 

প্রধানমন্ত্রী চলমান বৈশি^ মন্দা মোকাবিলায় দেশের প্রতি ইঞ্চি জমিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আগামীতে আমাদের দেশে যেন খাদ্য সংকট দেখা না দেয় সেজন্য আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য পুষ্টিরও জোগান দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের সকল গৃহহীনকে ঘর-বাড়ি করে দেওয়ার তাঁর সরকারেরআশ্রয়ণপ্রকল্পে ঘর দেওয়ার পাশাপাশি ভূমিহীনদের একটি সমিতিও করে দেওয়া হয়। যেখানে হাজার ৮শসমবায় গড়ে উঠেছে। যার সদস্য সংখ্যা লাখ ৪০ হাজার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের ১৩() নং অনুচ্ছেদে সমবায়কে সম্পদের মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং সমবায়কে গণমুখী আন্দোলনে পরিণত করার ডাক দিয়েছিলেন।

সে পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর সরকারসমবায় সমিতি আইন-২০০১এবং জাতীয় সমবায় নীতিমালা ২০১২ প্রণয়ন করে দিয়েছে। এর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। আর সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে পারবে বলেই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি।
 

সময় প্রধানমন্ত্রী সমবায় মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশে করে বলেন, ‘আশ্রয়ণপ্রকল্প বাআমার বাড়ি আমার খামারপ্রকল্পে যে সমবায়গুলো করা হয়েছে তাদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে তারা যাতে আরও উন্নতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে সে সুযোগটাও সৃষ্টি করতে হবে।বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবমহিলা সমবায় সমিতির মাধ্যমে নারী সমবায় সৃষ্টি এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোক্ত সৃজন প্রকল্প বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ তাকেও সাধুবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

...
News Admin
01731808079

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ