+

দরুদ শরীফের ফজিলত

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১১ দিন ১৪ ঘন্টা ৫৮ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 765
...

মাওলানা নুরুল আবছার ভুঁইয়াঃ

প্রিয় রাহমাতের নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টি জগতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট দাতা ও দয়ালু।জ্বীন-ইনসান সহ সকল মাখলুকাত একমাত্র তার উসিলায় সৃষ্টি হয়েছে। রাসুলে কারীম রউফুর রাহীম (দঃ)সৃষ্টি না করলে অন্য কোন মাখলুক সৃষ্টি করা হত না। কুরআনে পাকের ঘোষণানুযায়ী রাসুলে কারীম (দঃ)কে সমগ্র সৃষ্টি জগতের রহমত স্বরুপ প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের প্রতি তাঁর অফুরন্ত অনুগ্রহ  ও এহসান রয়েছে।এঅনুগ্রহের প্রতিদা পূর্ণভাবে আদায় করা কোন উম্মাতের পক্ষে সম্ভব নয়। এ দূর্বল কমজোর অপারগ বান্দা বান্দা গণ যাতে তাঁর সর্ব শ্রেষ্ট দোস্ত প্রিয় হাবীবের(দঃ)এর গুনগান করতে পারে সে জন্যই স্বয়ং আল্লাহ তা'য়লা মুমিন বান্দাদের শিখানো ও আমলের উদ্দেশ্যে কুরআনে পাকে সূরা আহযাবের ৫৬ নাম্বার আয়াতে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন-

"নিশ্চয় আল্লাহ তা'য়ালা ও তার ফেরেশ্তাগণ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ করেন। হে ইমানদারগণ! তোমরাও তাঁর (প্রিয় রাসূলের) প্রতি যথাযথ ভাবে দরুদ ও সালাম প্রেরণ কর। অত্র আয়াত দ্বারা রাসুলে কারীম(দঃ)এর সম্মান ও মর্যাদা পরিলক্ষিত হয়।স্বয়ং আল্লাহ মহান যিনি অশীম ও সকল শক্তির অধিকারী তিনি তাঁর প্রিয় হাবীবের প্রতি নুরের তৈরী ফেরেশ্তাদের নিয়ে রাসুলে আকরামের পাঁক নামে দরুদ (হাবীবের উপর রহমত বর্ষণে)সদা সর্বদা সব জায়গায় বিরাজমান। যে কাজ স্বয়ং শ্রষ্টা তাঁর ফেরেস্তাদের নিয়ে করছেন সে ইবাদত মুমিন বান্দাদেরও করতে বলেছেন।এর চাইতে আর উত্তম ফযীলত ও মর্তবার বিষয় কি হতে পারে ?

 

ফজিলতঃ

১/নিশ্চয় আমার প্রতি তোমাদের দরুদ শরীফ পাঠ,তোমাদের গুনাহের জন্য মাগফিরাত স্বরুপ। (জামে সগীর)

২/ দরুদ শরীফ পাঠ কারী সদা সর্বদা শ্রেষ্ট,যত বেশি দরুদ পাঠ করবেন তত বেশি রহমত অবতির্ণ হয়,গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৩/ রসূলে খোদা (দঃ)এরশাদ করেছেনঃ যখনই কোন ব্যাক্তি আমার উপর দরুদ পাঠ করে অমনি ঐ দরুদ নদ নদী পাঁহাড় জঙ্গল পূর্ব- পশ্চিম প্রান্তে চলে যায়। এবং বলতে থাকে "ওহে ওহে সবাই শোন" আমি অমুকের দরুদ অমুক ব্যাক্তি নবী পাঁকের উপর দরুদ পাঠ করেছে একথা শুনা মাত্রই পাহাড়  পর্বত সমস্ত মাখলুকাত দরুদপাঠ কারীর জন্য মাগফিরাতেরর দোয়া করতে থাকে। 

৪/ হুজুর যাবানে পাঁকে বলেছেনঃ আমার নিকট ঐ ব্যাক্তি আমার শাফায়াত পাওয়ার উপযুক্ত,যে আমার উপর বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করে।

৫/ বেশি দরুদ শরীফ পাঠ কারী কিয়ামতের ময়দানে হুজুরে পাঁকের সাথে থেকে হাশর করবে, অর্থাৎ তার হিসাব নিকাশের কোন চিন্তা থাকবে না।

৬/ দরুদ শরীফ পাঠ কারী বিচার দিবসের দিন হাঁসি মুখে উঠবে।

৭/ দরুদের নিয়মিত আমল কারী আল্লাহ প্রিয় হয়ে যায়।

৮/ দরুদ শরীফের আমলকারীর ইলমে মারেফাত দ্রুত অর্জন হয়,তবে আহলে বাইয়াতের স্বরনাপন্ন হতে হবে।

৯/ দরুদ শরীফ আমল কারীর অভাব খুব দ্রুত দূর হয়ে যায়।

১০/ মৃত্যু কালে অভিশপ্ত শয়তানের ধোকা থেকে সহজে বাঁচবে,শয়তান তার ঈমান হরণ করতে পারবে না।

১১/ নিয়মিত দরুদ শরীফ পাঠ কারী খুব সহজে মৃত্যুর আগে রাসুলেপাকের (দঃ)দীদার বা সাক্ষাত লাভ করবে।

এক কথায় যে নিজেকে মুসলিম দাবি করে অথচ সে দরুদেরর আমল করতে ভূলে গেল,হুজুর এরশাদ ফরমাণ সে জান্নাতের রাস্তা ভুলে গেল। "(তাবারানী)

 

ঐ মুমিনের উপর জান্নাত ওয়াজিব।

 

হাদিসে পাকের ঘোষণাঃ জীবনে একবার যে নবীজির দীদার লাভ করবে জাহান্নাম তাকে স্পর্শও করবে না এবং জান্নাত তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে।

 প্রিয় পাঠক হায়াতুন্যাবী (দঃ)এর শান মান গেয়ে লিখে বা বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা।এ নাম মুবারকের জিকির আসমানি প্রত্যেকটি কিতাবে এসেছে,প্রিয় পাঠক পবিত্র কুরআনও হাদিসে পাকের বাণী অনুযায়ী যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন পৃথিবীতে কোন মাখলুক থাকবে না,থাকবে না মাদরাসা মসজিদ আলেম হাফেজ কিছুই এবং ইবাদত বলতে কিছুই থাকবে না তখনো প্রিয় নবীজির দরুদ শরীফ পাঠ চলতে থাকবে,মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল ইজ্জত নিজেই দরুদ পাঠ করছে এবং করতে থাকবে।

ওয়াকিয়াহঃ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ)উনার লিখিত তারগীবুস সাদাত কিতাবে লিখেছেন,

যে ব্যাক্তি জুমার রাতে এভাবে দু রাকাত সালাত আদায় করবে সূরা ফাতিহার পর ১১বার আয়াতুল কুরসি ও ১১বার সূরা ইখলাস এবং নামাজ শেষে সালাম ফিরানোর পর ১০০বার এই দরুদ শরীফ পাঠ করবে ঐ আবেদ জুমা অতিবাহিত হওয়ার আগেই রহমাতাল্লিল আলামীন নবীর দীদার লাভ করবে অর্থাৎ নিশ্বসন্দেহে সে জান্নাতি। 

দরুদ শরীফটি এইঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদানিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়ালিহী ওয়া আসহাবিহী ওয়াসাল্লিম।

 (যাদুস সাঈদ)

 

ইহকাল ও পরকালের সমস্ত উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে এবং তোমার সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

 

ঈমাম আহমাদ (রাহঃ)হতে বর্ণিত, আবি কাব(রাদিঃ)বলেছেন, আমি নবী কারীম (দঃ) এর নিকট আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল ! 

আমার আবশ্যকীয় সময়ের মধ্যে কি পরিমাণ সময় দরুদ পাঠে ব্যয় করব ? উত্ততরে  পাক (দঃ) বলেছেন যে পরিমাণ তোমার ইচ্ছা হয়।বেশী সময় ব্যয় করলে তোমারি ভাল। আমি আরজ করলাম অর্ধেক সময় ব্যয় করব। রহমতের নবী ঘোষণা দিলেন, যে পরিমাণ তোমার ইচ্ছে। যদি তা হতে আরো বৃদ্ধি কর, তাহলে তোমারই ভাল। পূণরায় আমি আরজ করলাম, আমি তিন ভাগের দু'ভাগ সময় ব্যয় করব। হুজুর (দঃ)বল্লেন তুমি যে পরিমাণ ইচ্ছে কর। যদি আরো বৃদ্ধি কর,তাহলে তোমারই ভাল।আমি আরজ করলাম,অদ্য হতে আমার সমস্ত সময় আপনার জন্য ব্যয় করব।তখন নবী কারীম (দঃ)বলেন, এখন তোমার ইহকাল ও পর কালের সমস্ত উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে এবং তোমার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

ওয়ামা তাওফীকি ইল্লা বিল্লাহ।

Attachments area

...
Md. Saiful Islam(SJB:E525)
Mobile : 01558813552

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ