+

ঘুষ ও দুর্নীতিতে জর্জরিত বাকেরগঞ্জের এলজিইডি অফিস!

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৬ দিন ২ ঘন্টা ২৯ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 825
...

মোঃ বশির আহাম্মেদ!! 
বাকেরগঞ্জ সংবাদদাতা!!
 
বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। স্কুল সংস্কারের প্রাক্কলন তৈরি, ছাড়পত্র নেওয়া এবং বিভিন্ন কাজের সাইড পরিদর্শনের নামে বছরে প্রায় কয়েক  কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্কুলপ্রধানদের কাছ থেকে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাকেরগঞ্জ এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যালয়ের আওতায় বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা জানান, এলজিইডি কার্যালয় থেকে বিল উত্তোলন বা প্রস্তুত করাতে সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ৩ শতাংশ অর্থ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক অডার) নিতে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, ফাইল প্রস্তুত করাতে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা, স্ট্যাম্প বাবদ এক হাজার টাকা, কাজ পরিদর্শন প্রতি পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।

নাম প্রকাশ না-করার শর্তে উপজেলার একাধিক ঠিকাদার সরেজমিন কে জানান, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর পক্ষে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ শতাংশ, কাজের অনুমতি নিতে ১৫-২০ হাজার টাকা করে অফিস সহকারী শিরিন আক্তারকে দিতে হচ্ছে। ফাইল প্রস্তুত ও স্ট্যাম্প বাবদ দু-তিন হাজার টাকা অফিস সহায়ক মশিউর রহমানকে দিতে হচ্ছে। কাজের সাইড পরিদর্শন বাবদ সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীরা টাকা নিচ্ছেন।

একটি সূত্র সরেজমিন কে জানায়, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ঠিকাদারকে সর্বোচ্চ ছাড়ে কাজ পেতে সহায়তা করেন এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের মিয়া ও উপ-প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল। সম্প্রতি তাদের সহায়তায় ১৮ শতাংশ ছাড় দিয়ে কাজ পেয়েছেন তাদের পছন্দের এক ঠিকাদার। এ বিষয়ে হাওলাদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, যেখানে ৫ শতাংশ ছাড়ে কাজ নিতে সাহস পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা সেখানে অফিসের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই ১৮ শতাংশ ছাড় দিয়ে ওই কাজ ওঠানো সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে বছরে ৬০-৭০ লাখ টাকার ঘুস বাণিজ্য হয়। একজন ঠিকাদারকে ১৫ শতাংশের বেশি ঘুস দিয়ে কাজ করতে হয়। ফলে ঠিকাদারের পক্ষে এত টাকা ঘুস দিয়ে কোনোভাবেই মানসম্পন্ন কাজ করা সম্ভব হয় না।

২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে স্কুল সংস্কারে ছাড়পত্র ও প্রাক্কলন তৈরিতে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ডাকুয়া যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি বরাদ্দে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘুস দিয়ে প্রাক্কলন ও ছাড়পত্র নিতে হয়। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়াকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। বরং ঘুষের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দুই লাখ টাকা করে স্কুল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ আসে। উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে প্রাক্কলন নিয়ে এ কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, এলজিইডি কার্যালয় নানান অজুহাত দেখিয়ে ১৪-১৫টি স্কুলের প্রাক্কলন দিতে সক্ষম হয়েছে। তাও আবার বিদ্যালয় প্রতি ১-২ হাজার টাকা করে ঘুস দিতে হয়েছে। ঘুস না-পাওয়ায় বাকিদের প্রাক্কলন দেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করলেও উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় কোনো প্রকার তদারকি করে না। দাওকাঠি গ্রামের যুবলীগ নেতা কাইউম ও রফিক জানান, বাকেরগঞ্জ শ্রমিক মার্কেট থেকে শ্যামপুর বাজারের সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রকৌশলী আবুল খায়ের। একইভাবে উপজেলার পাদ্রশিবপুর সোনার বাংলা হাইস্কুল সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এলাকাবাসী জানান, এ কাজে রহস্যজনক কারণে এলজিইডি কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের তদারকি করা হয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের মিয়া জানান, এখানে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি সবাইকে বলে দিয়েছি, ইস্টিমেট আমি দেব। আপনারা কাউকে কোনো টাকা দেবেন না। এটা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরও কেউ অভিযোগ করলে সেটার কোনো ভিত্তি নেই।

...
Md. Kudrat Ali(SJB:E515)
Mobile : 01718988252

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ