+

পহেলা বৈশাখ: অভিন্ন চেতনার ভিন্ন স্বরুপ

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৯ দিন ০ ঘন্টা ০ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 1130
...

আজকের নার্সিসিজমের যুগে আমরা যখন নিজে দেখার চেয়ে অন্যকে দেখাতে বেশি পছন্দ করি,তখন পহেলা বৈশাখ পালনের চেতনা ক্রমশ মূলধারা থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারায় অত্যন্ত অপ্রকৃষ্ট রুপে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। যে সাংস্কৃতিক ধারাটি স্বাতন্ত্র্যের চিহ্ন বয়ে নিয়ে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে বাঙালি জাতীয়তাবোধকে ত্বরান্বিত করার প্রত্যয়ে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল তা আজ ধর্ম,বর্ণ, গোত্রকেই শুধু আলাদা অবস্থান দাঁড় করাচ্ছে না বরং একটির বিরুদ্ধে অপরটিকে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

যদিও এখনকার করোনা পরিস্থিতিতে বর্ষবরণ এর পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা হবে তবু এর সামগ্রিক চিত্র একই ও অপরিবর্তিত রয়েছে বলে বোধ করছি। বাঙালির ‘নওরোজ’  বলে বর্ণিত পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিষয়টি গোড়ার দিকে কৃষিজীবী মানুষের দেনা পাওনা চুকিয়ে নতুন বছর শুরু করার ঘটনা থেকে বিকশিত হয়েছিল বলে ধারনা পাওয়া যায়। রাজপরিবারে এই বিষয়টিকে ‘পূন্যাহ’ আর ব্যবসায়ী মহলে বিষয়টিকে বলা হয় ‘হালখাতা’। কৃষক পরিবারে মাঙ্গলিক এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হয় ‘আমানিও’।

আজকের নগরবাসীর জন্য এটি পান্তা-ইলিশ, লাল-সাদা, আর মঙ্গলশোভাযাত্রা তথা বর্ষবরণ। কিন্তু মূলত যে মঙ্গলকে সামনে রেখে এটি পালনের কথা বলা হয় তা ব্যক্তির মনে কতখানি শোভনযাত্রা সৃষ্টি করে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। যেহেতু মঙ্গলের বিপরীতে অবস্থিত অমঙ্গল মনুষ্য সৃষ্ট একটি প্রত্যয়, সেহেতু মঙ্গলের জন্য মানুষের মনেই আগে আন্দোলন সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন, কেননা বিধাতা অমঙ্গলের জন্য দায়ী নয়, ও জন্যই মানুষই যথেষ্ট।

সমাজের প্রতিটি মানুষে- মানুষে আজ যে বৈষম্য তা পহেলা বৈশাখ কমানোর প্রত্যয় নিয়ে অলক্ষ্যে বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না তা আজকে প্রশ্ন হয়ে দাড়াচ্ছে। নিম্নবর্গ উপর তলার মানুষের লাল-সাদা পোশাক দেখে আরো নিচে নেমে যাচ্ছে, নিম্নমধ্যবৃত্ত পান্তা-ইলিশের যোগান দিতে সঞ্চয়ে হাত দিচ্ছে, মধ্যবৃত্তের বৈশাখী ভাতা কম পড়ে যাচ্ছে, আবার একদিকে শিল্প-সংস্কৃতির মানুষ গাইছে ‘ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক’ , অপরদিকে পহেলা বৈশাখের ভীড়ে প্রজন্ম লাঞ্ছিত হচ্ছে প্রজন্মের হাতে।

এইতো গেল বর্ণ-বিভেদের কথা, এবার আসি গোত্র বিভেদের প্রসঙ্গে। ‘বৈসাবী’ নিয়ে প্রস্তুতি চলে পহেলা বৈশাখের বহু আগে থেকে। একটা ছোট্ট বাংলাদেশ আমাদের, এখানে বিবিধ জাতির বড় বড় বিবিধ অনুষ্ঠান। কারো ‘বৈসুক’, কারো ‘সাংগ্রাই’, আবার কারো ‘বিজু’।যদিও এই আচার অনুষ্ঠান বিভিন্ন জাতিসত্তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে ধারন করে তবু কথা হচ্ছে একত্রীকরণই যদিই নববর্ষের প্রার্থনা হয় তবে এই পৃথক আচার-অনুষ্ঠান কি যথেচ্ছ এর উদ্দেশ্য সফল করার জন্যে?

পৃথক আচার অনুষ্ঠান যদি জাতিগত পরিচয় বহন করে থাকে তবে একটি অভিন্ন আচার অনুষ্ঠান উদযাপন পূর্বক একাত্মতা পোষণের প্রয়োজন কি নেই? আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যয়েই যদি পৃথক আচার পালিত হয় তবে একত্র হবে কোন পার্বণে? এতদ্বিবিষয়ক চিন্তনে ধর্মের বিষয়টি আপেক্ষিক, কেননা আমরা এখনো অপ্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রেও নিজেদের মুসলমান কিংবা হিন্দু  বলে থাকি। কেউ কেউ আবার পহেলা বৈশাখ পালনকে হিন্দু-সংস্কৃতির অংশ মনে করেন মনে মনে, যদিও বাংলা বছরের প্রবর্তকই একজন বিখ্যাত মুসলমান শাসক।

তবে তা হয়ত পহেলা বৈশাখ পালনের বর্ধিত কিছু আচার-অনুষ্টানের কারণে ভেবে থাকেন, কারণ মোঘল সম্রাট আকবর যখন বাংলা সন চালু করেন তখন তা পালনের পরিধি মঙ্গলশোভাযাত্রা,  কিংবা পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ব্যাপ্তিতে বিস্তৃত হয়নি। কিন্তু জাতীয় একটি অনুষ্ঠানকে যদি কেউ হিন্দুদের সম্পত্তি বলে ঘোষনাই করে তবে তাদের আপত্তি করারতো কিছু থাকেই না। বোধ করি তারা বিষয়টিকে উপভোগই করে। মাঝখান থেকে যা হয় তা হলো মানুষে-মানুষের মিলনের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়।

তাই জাতীয় কল্যাণ আর ঐতিহ্যই যদি ব্রত হয় এবং নতুন সূচনা আর জীর্ণতাটাকে ভোলাই যদি উদ্যেশ্য হয়, তবে একদিনের বাঙালি সেজে বিভেদ সৃষ্টি না করে করে অন্তরে মঙ্গল প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে সম্মান করতে হবে সকল ধর্মকে, বর্ণকে, গোত্রকে; পৃথক না হয়ে এক হতে হবে মনুষ্যত্বে, কেননা এতেই মঙ্গল, বাহ্য অনুষ্ঠানে নয়। যে কৃষিজীবী ও নিন্মবর্গ মানুষকে কেন্দ্র করে এই উদযাপন আয়োজন বিকশিত হয়েছিল তাদের আবার কেন্দ্রে আনার প্রত্যয় ও উদ্যোগ হতে পারে নওরোজ কিংবা এই নতুন দিনের নব সূচনা। 

 শারমিন সুলতানা তন্বী
শিক্ষক, বাংলা বিভাগ 
নর্দান   বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

...
Md. Kudrat Ali(SJB:E515)
Mobile : 01718988252

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ