+

মাদকের ভয়াবহ দাবানলে জ্বলছে দেশের তরুণ সমাজ, নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২২ দিন ৪ ঘন্টা ৫২ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 955
...

মাদকাসক্তির ভয়াবহ দাবানল আমাদের তরুণ যুব সমাজ -
---------------  মোঃ দেলোয়ার হোসেন

একটি দেশের ভবিষৎ হলো সে দেশের তরুণ সমাজ।
এ ভবিষৎ নষ্ট করার অপকৌশল হচ্ছে মাদকে উৎসাহিত করে বাস্তবে তা প্রয়োগ করা।
এ মাদকের প্রভাবে যখন তরুণ সমাজ বিপথগামী হয়, তখন দেশের সার্বিক ব্যবস্হা ও বিপর্যস্ত হয়।

আমরা সকলেই অবহিত যে বিশ্বব্যাপী মাদকসক্তির বিরুদ্ধে বিপ্লব শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ নাগরিক হিসেবে আমরা ও আন্দোলন সংগ্রামে শামিল। মাদকের নেশায় হাজার হাজার তরুণ সর্বনাশা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এ নেশা বাংলাদেশের তরুণ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ জাল বিস্তার করেছে। তরুণ সমাজ আজ এই মরণ নেশার ছোবলে পড়ে সর্বস্বহারা হচ্ছে এবং জীবন বিপন্ন করে তুলেছে।

তারা নেশার টাকা যোগাতে নানান অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। হাইজ্যাক, খুন, জখম সন্ত্রাস এসব নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজ আজ হতাশা ও ব্যর্থতার বালুচরে ডুবে নীতিহীন ও বিবেকবর্জিত হয়ে মদ, গাঁজা, আফিম, পেথেড্রিন, চরস, হেরোইন, ফেনসিডিলের মতো মরণ নেশায় তরুণরা আসক্ত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলো বর্তমানে ড্রাগে ছেয়ে গেছে। কেবল ধনীরাই এখন এতে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যবিও পরিবারের তরুণরা ও
এই জালে জড়িয়ে পড়েছে ও জড়াচ্ছে। এর উৎস বিদেশে নানান দেশ।

পৃথিবীর শতাধিক দেশের ৫০ থেকে ৬০ কোটি মানুষ মাদকে আসক্ত বলে বিশ্বস্বাস্হ্য সংস্হার এক রিপোটে প্রকাশ করা হয়েছে। ৩৬ টি দেশের অধিক ক্ষতিকর মাদক উৎপাদন করা হলেও এর স্হানান্তরের প্রক্রিয়া শতাধিক দেশকে মাদকের লীলা ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক এক জরিপে জানা গেছে যে, সমগ্র দেশের ১৭ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে দেশের মাদকাসক্তের সংখ্যা ৫০ লাখের ও বেশি। প্যাথেড্রিন আসকক্তদের মধ্যে বেশি হচ্ছে মহিলার সংখ্যা।

১৯৮৪ সালে কোকেনের চাষ তিনগুন বাডিয়েছে। ব্রাজিলের এর চাষ বেডেছে। ইকোয়েডর ১৯৮৪ সালে ১৫,০০০ টন হেরোইন তৈরির জন্য কোকেনর পাতা আমদানি করেছে। বছরে বছরে তা আরো বেডেছে ড্রাগের উৎপাদান ও হচ্ছে দ্রুতগতিতে। এবার তো বাজার দরকার। এই বাজারের অন্যতম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ কে। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকে বাংলাদেশে এই নেশা ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করেছিল। গাঁজা, হেরোইন, চরস ইত্যাদি মাদকদ্রব্যে ছেয়ে গেছে দেশ।

মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে তরুণ সমাজের ধ্বংস নেমে আসছে, শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের। এর ফলে তরুণ সমাজ অধঃপতনের নিম্নসীমায় পৌঁছে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাদকের প্রভাবে যুবক শ্রেণী চুরি ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজী, ইত্যাদি অত্যচার -অনাচারের আশ্রয় নেয়। মাদকদ্রব্য ব্যক্তিকে নেশাগ্রস্ত করে তার ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে, সৎগুণ ও শুভ চৈতন্যকে নষ্ট করে দেয়। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ঞা এবং বেঁচে থাকার অনীহা সৃষ্টি করে। ফলে তারা যা ইচ্ছা তা করে।

মাদকদ্রব্য নানা রকম ক্ষতি সাধন করে। মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে মানুষ ক্রমান্বয়ে অসুস্হ হয়ে পড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়। প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়। যকৃত ও ফুসফুসের ক্ষতি, যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও জন্ডিসের মতো প্রাণ নাশা রোগের আক্রান্ত হয়ে পড়ে। রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। দৃষ্টিনষ্ট হয়, হূদরোগ হয়। এছাড়া মাদক গ্রহণের ফলে ব্যক্তির মেধা বিনষ্ট হয়, স্বরণশক্তি কমে যায়। নেশাগ্রস্ত লোকের ব্যক্তিত্বের অবলুপ্তি ঘটে এবং স্বাভাবিক জীবনে বেঁচে থাকার সামর্থ্য থাকে না।

আমাদের তরুণ সমাজই মাদকাসক্তির কবলে আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ থেকে তাদের কে রক্ষা করতে না পারলে জাতির জন্য তা অভিশাপ হয়ে থাকবে। এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে বিশ্বের সকল দেশের আইন তৈরি করা হয়েছে। শুধু মাদকাক্তি কুফলের কথা প্রচার করে বা উপদেশ দিয়ে এ ভয়ংকর ব্যাধি প্রতিকার করা যাবে না। এর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে প্রতিকার করতে হবে। মাদকদ্রব্যের মূল্য ও চাহিদা অনেক বেশি বলে এর ব্যাপক চোরাচালান হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধরা পড়েছে এবং বিনষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। মাদকদ্রব্যের চোরাকারবারির সর্বোচ্চ শাস্তি ও হচ্ছে না টাকা খেয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। এ জাতির জন্য এটা দুঃখজনক সংবাদ। নেশা ছাড়া সময় এরা নেশা বস্তুর জন্য উন্মদপ্রায় হয়ে যায়। মাদকদ্রব্যাধিমুক্ত ব্যক্তিরা আবার কখনো নেশাসক্ত হতে পারে, সেদিকে ও সর্তক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

মাদকাসক্তির ভয়াবহ দাবানল আমাদের তরুণ সমাজের ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের রোগ নিরাময়ের দায়িত্ব সকলের গ্রহণ করতে হবে। প্রধাণ দায়িত্ব হলো প্রশাসনের। তারা দৃঢ় হাতে হাল না ধরলে সামাজিক অপকর্মসমূহ রোধ করা যাবে না। তাই দেশের সর্বস্তেরের মানুষকে মাদকাসক্তির সর্বনাশা অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

...
Md. Delolwaor Hossain(SJB:E064)
Mobile : 01818974688

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ