+

নওগাঁ মহাদেবপুরে পৈতৃিক সুত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে হয়রানীর শিকার, অসহায় বৃদ্ধার ন্যায় বিচারের দাবী

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২ দিন ২২ ঘন্টা ৫৫ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 305
...

হাবিব স্টাফরির্পোটারঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে আয়েশা বেওয়া নামের এক বৃদ্ধার পৈতিক সুত্রে প্রাপ্ত জমি নিজ দখলে নেওয়ার ঘটনায়, প্রতিপক্ষ মহল কর্তৃক তথ্য সরবরাহ করে, ( বাঁশের বেড়াদিয়ে ৮ টি পরিবারকে অবরোদ্ধ করে রাখা হয়েছে)। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও গ্রামের লোকজনের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় লোকজনের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি  হলে, আজ মঙ্গলবার (৪মে) ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে সরজমিনে ৩ জন মিডিয়াকর্মী নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের পদ্দপুকুর গ্রামের ঘটনা স্থলে যায়। পাকা সড়কের উপর দাড়িয়ে থাকা কযেকজন নারীকে ( এই গ্রামে বাঁশের বেড়াদিয়ে ৮ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে সেই স্থানে যাব বলে জিজ্ঞাসা করিলে) এ সময় ঐ নারীরা বলেন, আমাদের গ্রামে কেউ অবরোদ্ধ নেই বলে তারা সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করেন, এমন মিথ্যা তথ্য কে আপনাদেরকে দিয়েছে, এরই এক পর্যায়ে ঐ নারীরা বলেন, ইট বিছানো রাস্তাদিয়ে সামনে যান, তাহলেই দেখতে পাবেন,জানতে পারবেন আসল ঘটনা।

নারীদের দেখানো রাস্তাদিয়ে মাত্র ২/৩ শ' ফিট সামনে গ্রামের ভেতর গিয়েই চোঁখে পড়লো বাশের বেড়াদিয়ে ঘেড়া একটি খলিয়ান। ঘটনাস্থলে মোটর বাইক রেখেই সরজমিনে দেখা যায়, বাঁশের বেড়াদিয়ে ঘেড়া খলিয়ানের পূর্ব ও উত্তর পার্শ্বে আনুমানিক প্রায় ৭ ফিট মানুষ চলাচলের জন্য রাস্তা ও পশ্চিম পার্শ্বেও একটি বাড়ি থেকে লোকজন বের হওয়ার জন্য প্রায় ৫ ফিট রাস্তা রেখে শুধু খলিয়ানটি বাঁশের বেড়াদিয়ে ঘিড়ে রাখা হয়েছে। সরজমিন কালে বেড়ার পূর্বদিকে রাখা রাস্তাদিয়ে ভেতরের দিকে এগিয়ে গিয়ে মোট ৪ টি পরিবার (বাড়ির) দেখামিলে এ সময় একটি বাড়ির সামনে ৫/৬ জন নারীকে দেখতে পেয়ে তারা অবরুদ্ধ কিনা..? এমন প্রশ্ন করাহলে সাংবাদিকদের জানান, এ খলিয়ানের মাঝখান ( মধ্যে) দিয়েই দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর ধরে চলাফেরা করে এসেছি এবং মধ্যেদিয়ে আমরা চলাচলের রাস্তা চাই এমন দাবি করেন।

আপনাদের চলাচলের জন্য প্রায় ৭ ফিট রাস্তা ছেড়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা কেন সাইডদিয়ে চলাচল করিব, আমরা মধ্যে দিয়ে চলাচল করি, মধ্যে দিয়েই রাস্তা চাই। এমনই মহূর্তে ঐ জমির মালিকানা দাবীদার জৈনিক আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যাক্তি খলিয়ানের পূর্ব পার্শ্বে রাখা, রাস্তাদিয়ে সংবাদকর্মীদের কাছে এসে বলেন, এই জমি আমার বাবা আমার নাবালক ছেলের নামে রেজিঃ দিয়েছেন এবং আমি ইতিমধ্যেই জমিটি বিক্রির জন্য জমিটির পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিক জৈনিক দুলালের কাছে থেকে বায়নার টাকাও নিয়েছি কিন্তু ছেলে নাবালক হওয়ার কারনে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে পারিনি দুলালকে। তিনি আরো বলেন, এ খলিয়ানে আমার খড়ের পালা ও গরু রাখার জায়গা ছিলো। সব ভেঙ্গে আয়েশা বেওয়া জমিটি পৈতিক সুত্রে মালিকানা দাবি করে তার লোকজন লাগিয়ে বাঁশের বেড়াদিয়ে ঘিড়ে নিয়েছেন খলিয়ানটি।এ সময় ৮ টি পরিবার বাশের বেড়ায় অবরোদ্ধ আছে কিনা জানতে চাইলে, তিনি সঠিক উত্তর না দিয়ে বলেন, খলিয়ানের মাঝখানে রাস্তাছিলো মানুষ চলাচলের কিন্তু সেটি বেড়াদিয়ে বন্ধ করে সাইডে রাস্তা দিয়েছে একারনেই অবরুদ্ধ বলতে পারেন।

এ ব্যাপারে জমির মালিকানা দাবীদার বৃদ্ধা আয়েশা বেওয়া ও  তার বড় বোন মৃত আমেনার ছেলে হাবিবুর রহমান জানান, জমির মূল মালিক ছিলেন তার বাবা মৃত তছির উদ্দীন। তছির উদ্দিন তার একমাত্র বড় ছেলে ও ৩ মেয়েকে  ছোট রেখে মৃত্যু বরন করেন।এ সময় বৃদ্ধা আয়েশা বেওয়া বলেন, আমার ভাই যদি কারো কাছে জমি বিক্রি করে থাকেন সেটি আমার ভাইয়ের অংশ বিক্রি করতে পারে কিন্তু আমাদের ( বোনদের) জমি তো ভাই বিক্রি করেননি, এজন্যই পৈতৃিক সুত্রে আমরা জমির মালিকানা পেয়েছি। জমিটি পড়ে ছিলো, সবাই খলিয়ান হিসেবে ব্যবহার করেছে এতোদিন। আমরা এমনিতে জমির মাঝ খান দিয়ে সবাইকে চলাচল করতে দিয়েছি প্রায় ৩০/৩৫ বছর। এইটা কোন রেকর্ডিও রাস্তা নয়। এরপরও আমাদের জমি খলিয়ানটি আমরা বাঁশদিয়ে ঘিড়ে নিলেও, মানুষ যেন চলাফেরা করতে পারেন, সে জন্যই খলিয়ানের ৩ সাইডে রাস্তা রেখেছি। তারপরও মানুষ কেন আমাদের সাথে শত্রুতা করে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে আমাদের হয়রানী করছে জানিয়ে তিনি ন্যায় বিচার দাবি করে প্রশাসনের আশুদৃষ্টি কামনা করেন।

বৃদ্ধার ছেলে মোঃ ইসরাফিল আলম বলেন, ওই জমিটি পৈতৃিক সুত্রে আমার মায়ের অংশ হিসেবে পেয়েছি, বলেই জমিটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে নিয়েছি। তবে পেছনের বাড়ির লোকজন চলাচলের জন্য ৩ সাইডে পর্যাপ্ত রাস্তা রাখা হয়েছে বলেও জানান। এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আপনাদের ( সাংবাদিকদের) মাধ্যমে ঘটনাটি জানার সাথে সাথে ৩ মে সোমবার ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, যেহতু ঐ জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, এ জন্য আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে উভয় পক্ষকে।

...
A.b.m Habibur Rahman(SJB:E634)
Mobile : 01713667189

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ