+

হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে করোনা রোগীরা

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৩ দিন ১২ ঘন্টা ৩৫ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 745
...

রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে শয্যা খালি নেই। আইসিইউ ও সাধারণ বেডের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। ঈদের পর থেকেই এসব হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ সংকট দেখা দেয়। গত তিন দিনে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রতিদিন ঢাকার বাইরের দুই শতাধিক রোগী রাজধানীতে আসছেন আইসিইউয়ের জন্য। সাধারণ শয্যার জন্য রোগী আসার সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি। রোগীদের আইসিইউয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন মাত্র দুই একটা বেড খালি হচ্ছে। কোনো রোগী সুস্থ হলে কিংবা মারা গেলেই বেড খালি হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। শেষে ভর্তি হতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন অনেক রোগী। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সামনে ‘সিট খালি’ নেই জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি টানাতে বাধ্য হয়েছে।

বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকরা জানান, অপেক্ষমাণ রোগীদের চাপ অনেক বেশি। শয্যা খালি না থাকায় বেশিরভাগ রোগীকেই ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে নিজেই নিজের সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতেই হবে।

করোনাসহ সব ধরনের রোগী চিকিত্সা সেবা নিতে ঢাকায় আসছেন। গত কয়েকদিন ঢাকার বাইরের করোনা রোগীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। আগত রোগীদের অভিভাবকরা বলেন, ঢাকার বাইরে আইসিইউ বেড পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। শুধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বেশিরভাগ জেলায় আইসিইউ নেই। এ জন্য জীবন বাঁচাতে রোগীকে ঢাকায় ছুটে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও বেড মিলছে না। এই অবস্থায় রোগীরা রাজধানীতে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ভর্তি হতে না পেরে আবার ফিরে যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলেন, যেসব রোগী ভর্তি হতে না পেরে ফেরত যাচ্ছেন তাদের ভাগ্যে কী হচ্ছে জানি না। তাদের অনেকে রাস্তায় কিংবা বাসায় গিয়ে মারা যাচ্ছেন। বাসাবাড়িতে অনেকে সিলিন্ডার অক্সিজেন দিচ্ছেন। কিন্তু আইসিইউয়ের রোগীদের প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ৭০ লিটার অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। যেটা সিলিন্ডার অক্সিজেনের মাধ্যমে সরবরাহ সম্ভব না।

আমেরিকায় যখন সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তখন সেখানে আইসিইউয়ের সংকট এমন হয়েছিল যে, বৃদ্ধদের বদলে তরুণদের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে এমন অবস্থা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে জেনারেল হাসপাতালে ছেলের জন্য আইসিইউ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ বছর বয়সী মা কানন প্রভা পালকে। পরে ওই মা মারা যান।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, এখনো সময় আছে, মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে সবারই মাস্ক পরতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। যারা মাস্ক পরবে না তাদের টঙ্গীর সংশোধনাগারের মতো সংশোধনাগারে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিকদের মাস্ক তৈরি করে গরীবদের মাঝে বিনামূল্যে প্রদানের জন্য আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

তবে কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি আছে। তবে সেগুলো মানসম্পন্ন নয়। আইসিইউয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা সেখানে না থাকায় রোগী মারা যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি।

আবার সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। হাসপাতালগুলোর এক শ্রেণির কর্মচারী ও ওয়ার্ডমাস্টারদের দালাল চক্রের সঙ্গে যোগসাজস রয়েছে। এই বিষয়টি স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, লকডাউনের সময় মানুষ গ্রামে গেছে, আবার ফিরে এসেছে। এদের অনেকেই সরকারি-বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। লকডাউন পর্যন্ত যারা গ্রামে গেছেন তাদের ঢাকায় আসার দরকার নেই, চাকরির কোন সমস্যা হবে না-এমন ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। এ কারণে মানুষ চাকরি বাঁচাতে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, এখন করোনা ও ডেঙ্গু বাড়ছে। ডেঙ্গু হলো দৃশ্যমান ভাইরাস। আর করোনা হলো অদৃশ্যমান ভাইরাস। এই দুই অদৃশ্য শক্তির মোকাবেলা করতে হবে। ডেঙ্গু এডিস মশার কামড়ে হয়। এটা সবাই জানেন। কিন্তু করোনা দেখা যায় না। তাই নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে হাসপাতাল কিংবা বেডের পর বেড বাড়িয়েও কোনো সমাধান হবে না বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, সংক্রমণ রোধের নিয়ম হচ্ছে, সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দুর্বল হয়ে যাবে। এছাড়া সবাই টিকা নিলে সংক্রমণ কমে যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে, মাস্ক পরতে হবে। তিনি বলেন, রোগীদের ঢাকামুখী প্রবণতা আছে। কিছু হলেই রাজধানীতে চলে আসেন রোগীরা। অথচ করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ৯০ ভাগেরই চিকিৎসা বাসায় কিংবা জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে সম্ভব।

সোসাইটি অব মেডিসিনের সাধারণ সম্পাদক ও মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, রাজধানীর কোথাও আইসিইউ শয্যা খালি নেই। রাজধানীতে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। এই দুই রোগের চিকিৎসা সাংঘর্ষিক। দুইটার চিকিত্সা দুই ধরনের। তিনি বলেন, মানুষ লকডাউন মানে না, মাস্ক পরে না। বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতেই হবে। নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কল-কারখানার মালিকরা যেন মাস্ক তৈরি করে গরীবদের মাঝে সরবরাহ করেন।

স্কয়ার হাসপাতালের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এছাম ইবনে ইউসুফ সিদ্দিকী বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে। অনেক নামিদামি মানুষ রিকোয়েস্ট করছেন রোগী ভর্তি করতে, কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় ভর্তি করানো যাচ্ছে না। তবে শয্যা খালি হওয়ার সাথে সাথেই রোগী ভর্তি করা হচ্ছে।

প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। অনেক ডাক্তার-নার্স করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ও মারাও গেছেন। কিন্তু চিকিত্সা সেবায় কোন ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি। বর্তমানে হাসপাতালে করোনা রোগীদের প্রচন্ড চাপ। বেড খালি নেই। তিনি বলেন, করোনা রোগীদের চিকিত্সা সেবা দিতে পারলে করোনা ভ্যাকসিন কেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিতে পারবে না? টিকার কার্যক্রমে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দ্রুত মানুষ সেবা পাবে।

...
News Admin

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ