+

আধুনিকতার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া : রাজু আহমেদ

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১১ দিন ৯ ঘন্টা ৫০ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 715
...


পরিবির্তন পৃথিবীর এক অপরিহার্য সত্য। পরিবর্তন থেকেই জন্ম নিয়েছে আজকের এই অত্যাধুনিক বিশ্ব। দুই যুগ আগের সময়ের সঙ্গে বর্তমানকে তুলনা করলে বিজ্ঞান ও আধুনিকতার চরম বিপ্লবকে উপলব্ধি করা একদমই কষ্টসাধ্য নয়। এসকল পরিবর্তন আমাদের কাজকে সহজ, সাশ্রয়ী, কম সময় ক্ষেপণ করছে। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করছে অনেক দুরূহ সমস্যারও। আধুনিকতার স্পর্শে উন্নত হচ্ছে পুরো দুনিয়া। আবার এটাই কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে আমাদের জন্য। একদিকে মানুষের মহামূল্যবান সময় রক্ষা পাচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু আবিষ্কার আমাদের ব্যস্ত করেছে মূল্যহীন সব কাজে। জীবন রক্ষাকারী সব খোঁজ আজ প্রাণ হরণকারী আয়োজনে পরিণত হচ্ছে। অভূতপূর্ব আবিষ্কারের দ্বারা তৈরি হচ্ছে আকাশচুম্বী স্থাপনা। আবার এরই মাধ্যমে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের আঙিনা। প্রতিটি মুদ্রার ভিন্ন দুই পৃষ্ঠের ন্যায় প্রতিটি বিষয়েরও থাকে ভিন্ন চেহারা। বিজ্ঞান ও আধুনিকতার বিশাল বিপ্লবের আড়ালেও বিশ্ব ও মানবজাতি সম্মুখীন হচ্ছে অপূরণীয় সব ক্ষয়-ক্ষতির। বিজ্ঞানের হাত ধরে বহু সমস্যার সমাধান আসছে, সেই সঙ্গে আসছে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। যা দিন দিন রূপ নিচ্ছে বড় থেকে বৃহত্তরের। বিশেষজ্ঞদের কপালে টানছে চিন্তার রেখা।


 
ঘোড়ার গাড়িকে সরিয়ে তার স্থান করে নিয়েছে মোটরযান। ডাকবিভাগকে রিটায়ার্ড দিচ্ছে ইমেইল। এখন আর অন্ধকারে রাত্রি অতিবাহিত করার প্রয়োজন নেই। গ্রীষ্মের মৌসুমে হাত পাখার ব্যবসাও বিলুপ্তপ্রায়। কুঁড়েঘরগুলোর আর তেমন দেখা মেলে না, গড়ে উঠছে বিশাল বিশাল স্থাপনা। আকাশের দিকে তাকালেই বিমান, হেলিকপ্টারের অবাধ বিচরণ। এসব তো রোগের প্রতিষেধক। তবে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো কী!

চলছে পৃথিবী আপন গতিতে। আর মানুষ বিশ্বকে উন্নত করছে দুর্বার গতিতে। মানব সভ্যতার পথে যত বাধা, সমস্যা এসেছে মানুষই তার সমাধা করেছে। তবে, প্রতিটা সমাধানই যেন জন্ম দিচ্ছে আরও জটিল কিছু। প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট তৈরি করেছিলেন পাহাড়, অনাকাক্সিক্ষত স্থাপনা ধ্বংস করে মানুষের নির্মাণ কার্যকে প্রগতিশীল করার উদ্দেশ্যে। এর পেছনে যতই মহান উদ্দেশ্য থাকুক না কেন, বর্তমানে মানুষ হত্যায় বহুল ব্যবহৃত অস্ত্র কিন্তু এটিই। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, আরডিএক্স, টিএনটি, এইচএমএক্স প্রতিটি বিস্ফোরক পদার্থের আবিষ্কারের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা ডিনামাইটের অনুরূপ। দেশে দেশে সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টিতে সুপরিচিত। পূর্বে একদেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পাড়ি দিতে হতো নদী, পাহাড়, সমুদ্র। কয়েক মাসের যাত্রা শেষে ক্লান্ত শরীর পৌঁছাত গন্তব্যে। আবার কিছু ক্ষেত্রে মৃত শরীর। এত ভোগান্তি ও জটিলতার প্রতিষেধক হয়ে এল মোটরযান, রেল, নৌযান ও আকাশযান। একইভাবে, আদিকাল ও আধুনিক যুগের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য সৃষ্টি করেছে বিদ্যুৎ। বিজ্ঞানের আজ পর্যন্ত সবচেয়ে মূল্যবান আবিষ্কার হিসাবে বিদ্যুৎকে চিহ্নিত করলে ভুল হবে না। বিদ্যুতের উপস্থিতি ব্যতীত আধুনিক বিজ্ঞানকে কল্পনা করা কোনোভাবে সম্ভব নয়। বিদ্যুতের গুরুত্ব যেমন সীমাহীন, এর ক্ষতিকর দিকগুলো তেমনই অপূরণীয়। এগুলোর প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক হলেও এর বিরূপ প্রভাবকে অগ্রাহ্য করার কোনো উপায় নেই।
আজ বিশ্ববাসীর জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা। যানবহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার সিংহভাগই কার্বন মনোঅক্সাইড নামক বিষাক্ত গ্যাস। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও শিল্প-কলকারখানাগুলোর ধোঁয়া থেকে বস্তুকতা, সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সীসাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর বহু উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো একদিকে দূষিত করছে বায়ু। অপরদিকে, বাড়িয়ে চলছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। যার ফলে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ডুবে যাচ্ছে সমুদ্র তীরবর্তী বহু নিচু এলাকা। লবণাক্ত হয়ে পড়ছে লক্ষ লক্ষ হেক্টর কৃষি জমি। সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর গবেষণার তথ্য মতে, দেশে কালো ধোঁয়ার কারণে প্রতি বছরে মারা যাচ্ছে ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ। যার মধ্যে শহরাঞ্চলের লোকজনের সংখ্যা বেশি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কালো ধোঁয়ায় থাকা বস্তুকতা ও সালফার ডাই অক্সাইডের প্রভাবে ফুসফুস, কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও সীসার কারণে শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তি ব্যাহত হয়। সেই সঙ্গে এসকল গ্যাসের ফলে ‘পৃথিবীর রক্ষাকবচ’ বায়ুম-লের ওজন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেটা সূর্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর অতিবেগুনি তেজস্ক্রিয় রশ্মিকে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয়। এই রশ্মির কারণে ত্বকের ক্যান্সার থেকে শুরু করে চোখের বড় রকমের ক্ষতি হতে পারে। তবে, দুঃখজনকভাবে আমাদের কার্যক্রমে স্তরটিতে ছিদ্র হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্প-কারখানা ও যানবাহনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি। এসব জ্বালানির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তৈল, গ্যাস ও কয়লা প্রভৃতির খনিজ পদার্থ। অনেকের মাঝে খনিজ পদার্থের পরিমাণ অসীম মনে করার এক ভ্রান্ত ধারণা পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, খনিজ পদার্থের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে। যা প্রতিদিন উত্তোলিত ও নিঃশেষ হচ্ছে। নতুন খনিজ পদার্থ সৃষ্টি হওয়া খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আমাদের ব্যবহার করা খনিজ সম্পদ ভূগর্ভে সৃষ্টি হতে সময় লেগেছে কয়েক হাজার বছর। এসব প্রয়োজনীয় সম্পদের অবাধ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছি হুমকির মুখে। সেই সঙ্গে আমাদের এই সুন্দর ধরণী সম্মুখীন হচ্ছে কিছু অপূরণীয় ক্ষতির।
সাধারণের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত এক প্রযুক্তি। এগুলো শুধু যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যোগাযোগ, বিনোদনের গ-ি পেরিয়ে এগুলো পৌঁছে গেছে অপসংস্কৃতি ও অপপ্রচারের দ্বারে। মানুষের প্রয়োজন থেকে আসক্তির রূপ নিচ্ছে। টেলিভিশন, ইউটিউবের মতো প্লাটফর্মও অসুস্থ বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম। তরুণ সমাজের মাঝে ডিভাইসকেন্দ্রিক হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে নিছক ভার্চুয়াল জগতে। সোশ্যাল মিডিয়া যেমন সচেতন করছে সমাজকে তেমনই সমাজ ও গোষ্ঠী সহজেই গোমড়া হচ্ছে বিভিন্ন গুজবে বিশ্বাস করে। এসকল হুজুগে বিশ্বাস প্রায় সময় সহিংসতা ও হানাহানির রূপ ধারণ করে। সম্প্রতি কুমিল্লার মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার বিভ্রান্ত খবর দেশজুড়ে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ ও হামলার বিষয়টি সকলেরই জানা। এছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অত্যাধিক ব্যবহার বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ। এসকল অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

...
Md. Razu Ahamed

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি


খুলনা বিভাগের সাংবাদিক, মুক্ত হাতে যারা লিখতে ভালোবাসেন তাদের জন্য সুখবর। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত, মিডিয়া অন্তুর্ভুক্ত জাতীয় দৈনিক সরেজমিনবার্তা পত্রিকায় খুলনা বিভাগীয় প্রধান , জেলা প্রতিনিধি , বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীগণ ০১৭১৫ ৯৫ ৯৩ ৪৪ এই নম্বর এ যোগাযোগ করুন।

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ