+

বাউফলের কালাইয়া গরুর হাটের সেকাল-একাল

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ৭ দিন ১৫ ঘন্টা ৪৯ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 590
...

মো.দুলাল হোসেন(বাউফল):

পটুয়াখালীর বাউফলের ঐতিহ্যবাহী কালাইয়ার গরুর হাট এটি দক্ষিণাঞ্চলের সকলের কমবেশী জানা আছে। গত শতাব্দীর সাত,আট ও নয় এর দশকের কথা বলা হচ্ছে। তখন কালাইয়া গরুর হাট আজকের মত এমন ছিল না। কালাইয়া বন্দরের আশপাশেটা ও এমন ছিল না। তখন কালাইয়া তেমন কোন আবাসিক এলাকা ছিল না। কেবলমাত্র সদর রোড,  মার্চেন্ট পট্টি ও কাপড়িয়া পট্টির কিছু দোকানের পিছনে পরিবার পরিজন নিয়ে অল্প কয়েকটি পরিবার বাস করতো।একসময় গরুর হাট নাকি বর্তমান বাজার খোলার জায়গায় ছিল। সেটা অনেকেই  দেখেনি বা দেখলেও মনে নেই।  যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে  সে সময়ও গরুর হাট এখানেই ছিল তবে হাটের ভৌত অবকাঠামো এমন ছিল না। 
এ ব‍্যাপারে কালাইয়ার বাসিন্দা বগা ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ‍্যাপক সৈয়দ এনামুল হক প্রতিবেদককে বলেন,  'হাটের দক্ষিণ পাশের রাস্তাটা মাটির  ছোট এবং নিচু মেঠপথ পথ ছিল। পশ্চিম পাশে পুকুর,  আলী আকবর স্কুল,  সুন্দরী সিনেমা হল সহ তহসিল অফিসের পূর্ব পাশে সব ই ছিলো ফসলী জমি। অনেকেই  শুকনার সময় সুন্দরী সিনেমা হলের উত্তর পাশের দেয়ালের পাশ দিয়ে ভিটার উপর দিয়ে সোজা মাঠ পেরিয়ে হাইস্কুলে গিয়ে যেত। সুন্দরী সিনেমা হল হবার আগে স্থানটা একটা ভিটা ছিল এবং ওখানে বড় একটা শিমুল গাছ ছিল। কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ‍্যালয় তখন  কেবল উত্তর ভিটিতে একটা লম্বা টিনের ঘর ছিলো যার ক্লাসরুম গুলো  বাঁশের বেড়া দিয়ে আলাদা করা ছিলো।  উত্তর ভিটির একদম পূর্ব মাথায় একটা ইটের দালান ছিল যার কোন দরজা, জানালা লাগানো ছিলো না,প্লাস্টার ছিল না এমনকি ফ্লোরেও কোন ইট ছিল না।কেবল ইট গেথে একটা ছাঁদ ওয়ালা বিল্ডিং।' 

 জানা যায়,তখন হাটের দিন স্কুল মাঠ গরুর হাট হয়ে যেত। হালি গরু( হাল টানা)  স্কুল মাঠে আর গাভী এবং ধুরী গরু( যা নোয়াখালী, চিটাগং এর ব্যবসায়ীরা কসাই এর জন্য কিনতো) উঠতো বর্তমান বাজারের মাঠে। স্কুলের মাঠের পূর্ব পাশে এখন যেখানে ২ টা সাইক্লোন সেল্টার সেখানে ছিল একটা স্রোতস্বীন খাল। যেটা ভরাট হয়ে এখন বাড়ি ঘর হয়ে গেছে। রাখাল ছেলেছোকরা তখন শুধু হালের গরুগুলোকে পাঁচন দিয়ে তাড়া করে দৌড়ের উপরে রাখতো।বাজারের পূর্ব পাশে দক্ষিণ পাশে পশ্চিম পাশে শুধু মাঠ আর মাঠ। ইদ্দিছ মোল্লা কলেজের অনেক দক্ষিণ পাশে বাড়ি ছিল। পূর্বে মৃধা বাড়ি ও প্যাদা বাড়ি পশ্চিমে বাবুর্চি বাড়ি ও মৃধা বাড়ি ছিল।  বাকি সবই ফসলী মাঠ যা আজকের প্রজন্ম কল্পনা ও করতে পারবে না। গরুগুলোকে হালি প্রমাণ করার জন্য সারাক্ষণ দৌড়ের উপর রাখতো। দাবড়িয়ে প্রায় তমিরার ভিটা( তমির উদ্দিন আউলিয়ার মাজার)  পর্যন্ত নিয়ে যেত আবার দাবড়িয়ে ফিরিয়ে আনতো। বর্ষার দিনে সেই দাবড়ানো ছোকরারা কাদা মেখেই খালে ঝাপ দিয়ে কাদা ধুয়ে সাঁতরে উঠতো।তখন ওদের জীবন দেখে আমারও অমন হতে ইচ্ছে করতো।

 পশ্চিম বাজারের গরুগুলো তেমন নড়াচড়া করতো না। ঐ বাজারে বিক্রি বাট্টা বেশি হলেও ক্রেতা বিক্রেতার কোলাহল স্কুল মাঠেই বেশি হতো।
  
তখন গরুর হাট শুরু হতো দুপুরের পর থেকে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে গরু মহিষ বাজারে নিয়ে আসতো। আগের দিন রাতে মানুষ গরু মহিষ নিয়ে দল বেধে সারারাত ও পরেরদিন দুপুর পর্যন্ত হেঁটে  হাটে আসতো। গরু মহিষ নিয়ে যানবাহনে ওঠার চিন্তা তখন কারো মনে এসেছে বলেও মনে হয় না। কেবলমাত্র ধুরী নৌকায় করে ব্যবসায়ীরা গরু মহিষ ঢাকা চিটাগং নিয়ে যেতো।
কালাইয়া মাদরাসার উত্তর পাশ থেকে একদম পূবের তেঁতুলিয়া নদী পর্যন্ত খালের দুপাশে সারি সারি ধুরী নৌকা বাধা থাকতো। রবিবার বিকেল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত কালাইয়ার পূব বাজারে চিটাগং নোয়াখালী অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার প্রচুর লোক দেখা যেত।

 এখন কালাইয়া গরুর হাট অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। স্কুলের মাঠ বাউন্ডারি ঘেরা। হাটের পূর্ব পাশে প্রশস্ত রাস্তা, উত্তর পাশে নতুন রাস্তা, পশ্চিম পাশে পুকুর, নতুন মসজিদ, নতুন হাসিলা ঘর এ-সব হাটের আয়তন অনেক কমিয়ে দিয়েছে কিন্তু এখন গরু মহিষ বেচা বিক্রি অনেক বেড়েছে। এখন হাট শুরু হয় ফজরের ওয়াক্তে আর শেষ হয় গভীর রাতে। ধুরী নৌকার স্থানে পশু পরিবহনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে শত শত ট্রাক,টমটম সহ নানা রকম স্থল যান আর নৌ পথে কার্গো জাহাজ। আগে বেপারিরা লঞ্চে আসতেন আর এখন আসেন এসি মাইক্রো বাসে।
 অপরিকল্পিত পুকুরের কারণে হাটের অর্ধেক  বর্ষা কালে তলিয়ে থাকে যা আগে সমতল ভূমির কারনে হতো না। তখন গরুর হাটের পাশের মাঠ গুলোতে সবচেয়ে ভালো ধান হতো শুধু গোবর সার আর গরু মহিষের হাটা চলায় চাষের কাজ অনেকটা হয়ে যেত বলে।
 স্থানীয় গরু ব‍্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, এখন আর সেই দিন নেই,প্রয়োজন নেই হালের জন্য গরু বা মহিষ! গরু মহিষ পালার এখন  একটাই উদ্দেশ্য সেটা হচ্ছে জবাই করা।
   

  
  

...
Md. Dulal Hossen

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি


খুলনা বিভাগের সাংবাদিক, মুক্ত হাতে যারা লিখতে ভালোবাসেন তাদের জন্য সুখবর। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত, মিডিয়া অন্তুর্ভুক্ত জাতীয় দৈনিক সরেজমিনবার্তা পত্রিকায় খুলনা বিভাগীয় প্রধান , জেলা প্রতিনিধি , বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীগণ ০১৭১৫ ৯৫ ৯৩ ৪৪ এই নম্বর এ যোগাযোগ করুন।

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ