গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিবন্ধন নাম্বার ৬৮

কোরবানির ইতিহাস ও বিধিবিধান

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২০ দিন ২০ ঘন্টা ১২ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 1000
...

আল্লাহ তাআলা বলেন :‘সব সম্প্রদায়ের জন্য আমি কোরবানির বিধান দিয়েছি, তিনি তাদের জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (২২:৩৪)। রসুলুল্লাহ (স.) বলেন : ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেকাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)। 

ইতিহাসের প্রথম কোরবানিদাতা হলেন হজরত আদম (আ.)-এর পুত্র হাবিল (রা.) ও কাবিল। বাবা আদম (আ.) বললেন, তোমরা আল্লাহর নামে কোরবানি করো, যার কোরবানি কবুল হবে, তার দাবি হবে গ্রহণযোগ্য। তারা উভয় কোরবানি দিলেন, হাবিলের কোরবানি কবুল হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন :‘আপনি তাদের আদমের পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত শোনান। যখন তারা উভয়ে কোরবানি করেছিলেন তখন এক জনের কোরবানি কবুল হলো, অন্যজনেরটা কবুল হলো না।

অব্যশই আল্লাহ মুত্তাকিনদের কোরবানিই কবুল করেন।’ (৫:২৭)। পরবর্তী ইতিহাস পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে—‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নেক সন্তান দান করুন। অতঃপর আমি তাকে সহিষ্ণু পুত্রের সুসংবাদ দিলাম, অতঃপর সে যখন তার পিতার সঙ্গে কাজ করার বয়সে উপনিত হলো তখন ইবরাহিম (আ.) বললেন, ‘হে বত্স! আমি স্বপ্নে দেখেছি, তোমাকে আমি জবাই করছি, তোমার অভিমত কী?’ সে বলল, ‘হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন।

আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ যখন তারা আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহিম (আ.) তার পুত্রকে কাত করে শোয়ালো, তখন আমি ডেকে বললাম— ‘হে ইবরাহিম! আপনি তো স্বপ্নাদেশ সত্যই পালন করলেন!’ এভাবেই আমি সত্কর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে মুক্ত করলাম মহান কোরবানির বিনিময়ে। এটা পরবর্তীদের স্মরণে রেখে দিলাম। ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য অভিবাদন!

আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও শুভেচ্ছা!’ (৩৭:১০০-১১০)। বর্তমান কোরবানি এই ইতিহাসেরই ধারাবাহিকতা। সাহাবাগণ নবিজি (স.)কে জিগ্যেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রসুল! কোরবানি কী? নবি (স.) বললেন, এটা তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। সাহাবায়ে কেরাম আবার জিগ্যেস করলেন, এতে আমাদের জন্য কী রয়েছে? মহানবি (স.) বললেন, ‘কোরবানি জন্তুর প্রতিটি পশমে তোমরা একটি করে নেকি পাবে।’ সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, ‘ইয়া রসুলাল্লাহ! (স.) আমরা যদি ভেড়া কোরবানি করি?’ নবি করিম (স.) বললেন, ‘তাতেও প্রতি পশমের বিনিময়ে ছাওয়াব দেওয়া হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

যে কোনো মুসলিম নারী-পুরুষ কোরবানির পশু জবাই করতে পারেন। কোরবানি নিজে জবাই করা উত্তম। না পারলে কাউকে দিয়ে জবাই করাতে পারেন। জবাইয়ের সময় উপস্হিত থাকতে পারলে ভালো। নারীরাও জবাই করতে পারেন। জবাইয়ের দোয়া পড়া সুন্নাত, না জানলে বা না পড়লেও কোরবানি হয়ে যাবে। জবাইয়ের সময় কোরবানিদাতাদের নাম বলা প্রয়োজন নেই।

গরু, মহিষ বা উটে অংশ হিসেবে কোরবানির মতো আকিকাও করা যায়। একই পরিবারের বা বিভিন্ন পরিবারের সদস্য একই পশুর সাত অংশে শরীক হতে পারবেন। নারী যদি সামর্থ্যবান বা সাহেবে নিসাব হন, তার জন্যও কোরবানি ওয়াজিব। হিজড়ারা মূলত নারী বা পুরুষ, তাই তারাও প্রাপ্তবয়স্ক এবং সামর্থ্যবান হলে নামাজ. রোজা, হজ, জাকাতের মতো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোরবানিও ওয়াজিব হবে। 

লেখক: সভাপতি, জাতীয় মুফতী পরিষদ বংলাদেশ

...
News Admin
01731808079

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ