+

করোনায় আয় কমে যাওয়ায় বাসা ভাড়া; চাপ বাড়ছে বস্তির উপর

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২০ দিন ২৩ ঘন্টা ১৯ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 1105
...

বেলায়েত হোসেনঃ

রাজধানীর মহাখালী এলাকার একটি বাড়ির মালিক আমির হোসেন। বাড়িটি রাস্তাসংলগ্ন হওয়ায় বছরের কোনো সময়ই কোনো ফ্ল্যাট ফাঁকা থাকে না। এমন কোনো মাস যায়নি, যে মাসে তার কোনো ফ্ল্যাট ভাড়াটিয়ার অভাবে ফাঁকা গেছে। তবে ব্যতিক্রম হয়েছে এবার। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গত দুই মাস ধরে তার দুটি ফ্ল্যাট ফাঁকা আছে। নতুন মাসের (জুলাই) পাঁচ দিনও পার হল এখন পর্যন্ত ভাড়াটিয়া পাননি তিনি। ভাড়াটিয়ার খোঁজে বাসার সামনে শুধু 'টু লেট' টাঙিয়ে থেমে থাকেননি আমির হোসেন। 'বাসা ভাড়া হবে'- এমন ছোট ছোট পোস্টার লাগিয়েছেন পাড়া-মহলস্না, অলি-গলি, বড় রাস্তার পাশে। তবু কারও আগ্রহ দেখছেন না তিনি।

শুধু আমির হোসেন বাড়িই নয়, করোনাভাইরাস অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধাক্কা দিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, তাতে রাজধানীর বেশিরভাগ বাড়িতেই এখন ভাড়াটিয়া সংকট দেখা দিয়েছে। সেজন্য সিংহভাগ বাড়িতে ঝুলছে বাসা ভাড়া দেয়ার বিজ্ঞাপন 'টু লেট'

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন, অনেক মানুষের শ্রেণি কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে অনেক মানুষ হতদরিদ্র হয়েছেন, ফলে আগের ভাড়ার ভার বইতে পারছেন না তারা। সেজন্য ছেড়ে দিচ্ছেন বাসা, ছেড়ে দিচ্ছেন ঢাকাও। আর ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে দেওয়ায় এবং নতুন ভাড়াটিয়া না পেয়ে বিপদে পড়েছেন বাড়ির মালিকরা।

আমির হোসেন বলেন, আমার ছয়তলা বাসার দুটি ফ্ল্যাট বিগত দুই মাস ধরে ফাঁকা, আর চলতি মাস ধরলে তিন মাস। ওই দুই ফ্ল্যাটে আগে যারা ছিলেন তারা চাকরি হারানোর কারণে বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে আর কোনো ভাড়াটিয়া ওঠেনি। সে কারণে পড়েছি বিপদে। কোনোভাবেই ভাড়াটিয়া পাচ্ছি না, এমনকি ভাড়া দুই হাজার টাকা কমিয়েও দিয়েছি। তবু কোনো ভাড়াটিয়া পাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, 'বাসা ভাড়ার আয়ের ওপরই সংসার চলে, সেই সঙ্গে নানা খরচও আছে। যে কারণে বিভিন্ন জায়গায় 'টু লেট' পোস্টার লাগিয়েছি। তবু বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না। সব মিলিয়ে বিপদে পড়েছেন ঢাকায় আমার মতো অন্য বাড়ির মালিকরাও।' কী কারণে রাজধানীর এই অবস্থা- জানতে চাইলে তেজগাঁও এলাকার এক বাড়ির মালিক এর বলেন, সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের কারণে ভাড়াটিয়ারা অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন আগেই। পরিবারের উপার্জনের ব্যক্তিটি পরে বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো মেস বা ছোট বাসায় উঠেছেন। যে কারণে অনেক বাসা ফাঁকা হয়ে গেছে। এছাড়া এই পরিস্থিতিতে নতুন কেউ বাসা পরিবর্তন করেননি এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় নতুন মানুষও তেমন একটা আসেননি।

তিনি আরও বলেন, ঠিকমতো বেতন না পাওয়া, কাজ না থাকা, এমনকি চাকরি হারানো'- এসব কারণে ঢাকা ছাড়ছেন অনেক মানুষ। অনেকের ইনকাম কমে গেছে, যে কারণে আগে ১৬ হাজার টাকার বাসায় থাকলেও এখন ১০ হাজার টাকার বাসায় চলে যেতে চাচ্ছেন। অনেকে চাকরিচু্ত হয়েছেন। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন, যাদের ব্যবসা একেবারেই বন্ধ, তারা পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে গেছেন।

তবে, চাপ বাড়ছে বস্তি এলাকাগুলোতে। সেখানে বাসা ভাড়া কিছুটা কম হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই চলে যাচ্ছেন সেখানে। পরিবেশ পরিস্থিতি খারাপ যেনেও যেতে হচ্ছে।

রাজধানীর কড়াইল বস্তি ঢাকা উত্তর সিটির বনানীর এক কোনায় বাসা ভাড়া নিয়ে আশা লালবাগ থেকে আগত হেলাল উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি লালবাগের একটি জুতার কারখানায় কাজ করেন। মাসিক বেতন ১৮,০০০ হাজার টাকা। করোনার কারনে কাজ কম থাকায় মালিক বলে দিয়েছে এতটাকা দিয়ে এখন কাজে রাখা যাচ্ছে না বেতন পাবেন ১২,০০০ হাজার টাকা মন চাইলে কাজ করতে পারেন না করলে চলে জান। কি আর করা, এই মুহুর্তে কাজওতো ছাড়া যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে এই বস্তিতে বাসা ভাড়া নেওয়া।

 

 

...
MD. BELAYET HOSSAIN(SJB:E002)
Mobile : 01914733000

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ